Monday, 8 August 2022

সম্পাদকের কলমে--


সম্পাদকের কলমে--

সম্পাদকীয় লিখতে গিয়ে মনে পড়ল বাইশে শ্রাবণের কথা--

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে

আমি বাইব না 

আমি বাইবোনা মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,

……

চুকিয়ে দেবো বেচা কেনা,

মিটিয়ে দেবো গো 

মিটিয়ে দেব লেনা দেনা, 

বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে।

…..

ঠিক এই সময়টা রবি ঠাকুরকে খুব করে মনে পড়ছে। ঠিক এমনি একটা দিনে ভারতের এক ইন্দ্রপতন ঘটেছিল। আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমাদের কাছের, দূরের, আপন পর সমস্ত ভেদাভেদের প্রাচীর লংঘন করে আমাদের কাঁদিয়ে চলে গিয়েছিলেন। সাহিত্যের ময়দানে তাঁর ভাব-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা সবকিছু নিয়ে আজও আমরা সাহিত্য বাসর রচনা করছি। একটা আপন মানুষ. একটা মনের মানুষ, একটা প্রেমের মানুষ, ভালোবাসার মানুষ চলে গিয়েছিলেন আজের মত এমনি একটা দিনে।

আমরা সে বিয়োগ ব্যথা তেমন ভাবে অনুভব করতে পারিনি, যেহেতু আমরা সে সময়কাল দৃশ্যের অনেকখানিই বাইরে ছিলাম। তদানীন্তন মানুষরা যারা ছিলেন তাঁর সমসাময়িক তাঁরা মনে প্রাণে এই ব্যথা অনুভব করতে পেরেছিলেন।

কিন্তু একটা কথা না বলে পারছি না, এই যে আমরা লিখে যাচ্ছি, পড়ে যাচ্ছি, সাহিত্যের কথকথা নিয়ে এত আলোচনা, সমালোচনা সাহিত্যের ভাবনা নিয়ে এত নাড়াচাড়া করছি, এসব কিছুর মূলেই কিন্তু তার ছোঁয়া রয়ে গেছে। অংকুরে যেমন ধরা থাকে সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ঠিক তেমনি বাংলা সাহিত্যের বিস্তার প্রসার যতই হোক না কেন তার অঙ্কুরটি কিন্তু বাঁধা পড়ে আছে তাঁরই হাতে।

মাঝে মাঝে মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ আজও আমাদের মাঝে জীবিত আছেন। তাঁর অস্তিত্ব আমাদের আশপাশে প্রতিনিয়ত আমরা অনুভব করে যাই। এক স্বাভাবিক নিয়মে আমাদের সাহিত্যের প্রতিটি ভাব-ভাবনায়, ভাবে-সম্প্রসারণে এখনো তাঁকে ছুঁয়ে থাকি। তিনি তো দূরে নেই--এখনো তিনি আমাদের কাছের মানুষটি হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এখনো তিনি এখনো আমাদের স্পর্শে, আমাদের সংস্পর্শে বিরাজমান। প্রসঙ্গত তাঁর, ১৪০০ সাল, কবিতাটির কথা মনে পড়ছে--

আজি হতে শতবর্ষ পরে

কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি

কৌতুহলভরে

আজি হতে শতবর্ষ পরে…


আবার মনে পড়ে তাঁর স্মরণ গাঁথা--


মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান…


রবি ঠাকুর আজও আমাদের কাছে একান্ত আপনার হয়ে আছেন। আজ থেকে হাজার হাজার বছর পরেও তিনি আমাদের মন-মানসে সমান ভাবে থেকে যাবেন সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় নায়ক হয়ে।

সহ-সম্পাদকের কলমে--

মানুষের জীবন থেকে জন্ম নেয় গল্প কবিতা উপন্যাস। জীবনে চলার পথের বাঁকে বাঁকে সম্পর্ক যেমন থাকে, তেমনই থাকে  পারিপার্শ্বিক নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান, তথ্য ইত্যাদি। তাই জীবন থেকেই যে সাহিত্য জন্ম নেবে তাতে আর আশ্চর্য  কী! 

 মানুষের জীবনের উত্থান পতন, রোগ, শোক, দুঃখ ,বেদনা, আনন্দের কথা যেমন এসেছে ঠিক তেমনই উঠে  এসেছে কখনো কখনো রোগের প্রকোপে উজাড় হয়ে যাওয়া গ্রাম, শহর, জনপদের কথা। মড়ক ঠেকানো সম্ভব হয়েছে কখনো বা, কখনো মৃতদেহের সৎকার করার জন্যও অবশিষ্ট থাকে নি কেউ। অতিমারির সমস্যা, চরম সঙ্কটের বিষয়টিও তাই বার বার উঠে এসেছে বিভিন্ন লেখকের বিভিন্ন লেখালেখির মধ্যে।

একের পর এক সংক্রমণের  খবরে বিচলিত হয়ে উঠেছে ,প্রিয়জনের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে গেছে। 

             স্তব্ধ হয়না  শুধু লেখকের কলম দেশে বিদেশে সাহিত্যের মধ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ দিনগুলির আতঙ্কের ছবি। 

 'সাহিত্য সমাজের দর্পণ' তাই সমাজের বিভিন্ন সামাজিক বিষয়গুলিও  সময় বিশেষে বিভিন্ন লেখকের কালজয়ী লেখার মধ্যে ধরা থাকে বৈকি! ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে থেকেও জীবনের  স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনতে কি ভাবে মানুষ কোমর বেঁধে উঠে দাঁড়ায়, নূতন সূর্যের আলো দেখতে দেখতে আবারও দিন শুরু করে দেয় নূতন উদ্যমে। আবারো মেতে ওঠে জীবনের চিরন্তন ছন্দে। প্রবহমান জীবনের সমান্তরালে যেমন থাকে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, হিংসা-দ্বেষ, ঈর্ষার জ্বালা তেমনই থাকে প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা আর সহমর্মিতার কোমল পরশ। তাইতো এত কিছুর পরে জীবন টিকে থাকে জীবনের মতোই, আর এগুলিই জীবনের গল্প হয়ে ওঠে।-- সাবিত্রী দাস।

সহ -- সম্পাদকের কলমে--

জরা ব্যাধি আর অনটনের কালো মেঘ কেটে নীল আকাশের বার্তা নিয়ে শরৎ  সমাগম। বাঙালি যতই জর্জরিত হোক যাপনের ক্লেশে মনের ভেতর চেনা সুবাস হাতছানি দেয়। পাৎলা সরের মত কুয়াশা এখনও ঘাসের ওপর দুরের অনেক দুরের কোন নির্জন পরিসরে। মলিন বস্ত্র ছেড়ে আমরা আবার শুনছি অদৃশ্য আনন্দগান।

যাপন ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বের সমস্ত সাহিত্যকে পরিবর্তিত করেছে। তেমনি বাংলা সাহিত্যে নানা বাঁক বদলের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। নানা নিরীক্ষণ মূলক লেখা ভাব ও লিখনশৈলীতে সমৃদ্ধ করেছে সাহিত্য ভাণ্ডার। গদ্য সাহিত্য ব্যতিক্রম নয়। post colonial বা নিও লিটারেচার  সময়ে ভাষা ও শব্দ ব্যবহারে এসেছে অনেক ভাঙচুর। তবু যেমন ছোটো গল্পের ক্ষেত্রে জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী একটি ধারা, কমল কুমার মজুমদার তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আসনটিতে চিরন্তন।এখন গদ্য লিখনে নানা ফর্ম দেখা যাচ্ছে অণুগল্প বা খুব ছোটো গল্প যা একটি নিপুণ সম্পূর্ণ গল্প বলা তেমনি সমীর রায় চৌধুরী ও কাজল সেন প্রবর্তিত ঝুরোগল্প আরেকটি সংযোজন যা ওপেন এণ্ডেড। সাবলীলতা আর  মেদবর্জিত সপাট শব্দ প্রয়োগ অগ্রাধিকার পাবে। গল্পে থাকতে হবে একটি অভিনব মোচড় যা পাঠককে নতুন কোন ভাবনার রশদ জোগায়। এই সব ও আরো অনেক কিছু নিয়ে জমে উঠুক গল্প সল্প।-- জয়ীতা ভট্টাচার্য্য।

                      

No comments:

Post a Comment

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল-- নারী জীবনের সার্থকতা ____________________ সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ । তার বাবা ফুটপাতের খুচ...