Showing posts with label তমা কর্মকার. Show all posts
Showing posts with label তমা কর্মকার. Show all posts

Monday, 8 August 2022

বালুকাবেলায় নীল --তমা কর্মকার


বালুকাবেলায় নীল 
তমা কর্মকার

আমি আমার এক মাত্র ছেলের বিয়ে দিয়ে ছেলে বৌমাকে তাদের সংসার বুঝিয়ে দিয়ে আমার একাকিত্বের ভবঘুরের মতো জীবন যাত্রা টাকেই বেশী পছন্দ করি সংসারের আবদ্ধ জীবনটাতে আমি ভীষণ ভাবে হাঁপিয়ে উঠি, তাই মাঝে মাঝেই কাজের ফাঁকে ছুটে বেড়াই দেশের এপ্রান্তঃ(এ প্রান্ত) থেকে ও প্রান্তে, কখনো পাহাড় তো কখনো সমুদ্র মাঝে মাঝে ছুটে যাই আমার গল্প কবিতা লেখার রসদের খোঁজে শিমুল বকুল সাল(শাল) পিয়াল পলাশের বন ঘেরা শান্তি নিকেতনে, কখনো সমুদ্রের বালুকা বেলায় নিজের হারিয়ে যাওয়া আবছা অতীত টাকে খুঁজে ফিরি, আর এমনই অতীত বর্তমান ভবিষ্যত মিশেয়ে(মিশিয়ে) কিছু সত্যি ঘটনা লিখে ফেলি নিজের ভাষা সম্বল করে, আজ লিখবো এমনই এক লাল অস্ত যাওয়া সমুদ্রতটে এক গোধূলির বালুকা বেলার কথা|
আমি এক পড়ন্ত বিকেলে  খানিকটা একাকিত্ব কাটাতে একাই হাটছিলাম সমুদ্রের পাড় ধরে হঠাৎ দেখলাম কিছু লোক এক জায়গায় জটলা করে কি যেন খুব মনোযোগ সহকারে দেখছে আমিও খানিকটা  কৌতূহলি হয়ে এক পা দু পা করে এগিয়ে গেলাম জটলা হওয়া মানুষ গুলোর দিকে,আর একটু এগিয়ে যেতেই আমার চক্ষু ছনাবড়া হয়ে গেলো,বালি দিয়ে কি সুন্দর সুন্দর ভাস্কর্য তৈরী করেছে একটি ছেলে বালুকাবেলায়,যা দেখলে মনে হয় এই বালির রাশি এক জায়গায় জড়ো করে এই সুন্দর সুন্দর ভাস্কর্য স্বর্গ থেকে স্বয়ং বিশ্বকর্মা নেমে এসে নিজে হাতে তৈরী(তৈরি) করেছেন|যা দেখলে মনে হয় জীবন্ত এখুনি সবার সাথে কথা বলবে,আমি অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে হা করে সেই ভাস্কর্য দেখতে লাগলাম,কখন যে গোধূলি কাটিয়ে সন্ধ্যা নেমেছে বুঝতে পারিনি, কখন সূর্যের আলো চলে গিয়ে কৃত্রিম বৈদুতিক আলোয় সেজে উঠেছে সমুদ্রের পাড় দিয়ে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি আমার পাশ থেকে সবাই চলে গেছে আমি মোহিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি,হঠাৎ আন্টি সবাইতো চলে গেছে আপনি যাবেননা(?) এই একটা ডাক আমার সম্বিৎ ফেরালো আমি চমকিত হয়ে, যে ডাকলো তার দিকে অবাক চোখে তাকালাম তাকিয়ে দেখি একটি উনিশ কুঁড়ি বছরের ছেলে আমার দিকে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে আছে আমি ওকে বললাম হ্যাঁ যাবো, কিন্তু যাবার আগে একটু তোমার সাথে কথা বলতে চাই তোমার কথা জানতে চাই, ও বলল কি হবে আন্টি আমার কথা শুনে? আমার কথা জেনে?আমি বললাম আমি একজন লেখিকা আমি তোমার জীবনের কথা লিখতে চাই , ও খুব আনন্দ পেলো আমার কথা শুনে বলল সত্যিই লিখবেন আন্টি আমার কথা আমার পরিবারের কথা আমি বললাম হ্যাঁ লিখবো, ও তখন বলল তাহলে চলুন আন্টি কাছেই আমার বাড়ি আজ রাতে আমার অথিতি(অতিথি) হয়ে রাতের খাবার খেতে খেতে না হয় আমার কথা শুনবেন, আমি বললাম বেশ তবে তাই চলো|আমি দীঘার ব্লুভিউ হোটেলে উঠেছিলাম এক সপ্তাহের জন্য, ফোন করে হোটেল ব্লু ভিউ হোটেলের ম্যানেজারকে জানিয়ে দিলাম আমি আজ রাতে ফিরবোনা( ফিরবো না) আমার এক পরম আত্মীয়ের বাড়ীতে আছি,কাল সকালে ফিরবো ম্যানেজার বলল ঠিক আছে দিদিমনি,আমি ফোনটাকে ব্যাগে রেখে চললাম ছেলেটির সাথে সাথে ওর বাড়ীর দিকে, ওর সাথে কথা বলে জানলাম ওর নাম নীল, নীলের সাথে নীলের বাড়ীতে এলাম নীল আমাকে বাড়ীতে এনে এক ভদ্রমহিলাকে বলল ভালো মা এই আন্টি আজ রাতে আমাদের বাড়ীতে থাকবে তুমি রাতের রান্না করো আমি একটু বাজার থেকে আসছি এই বলে নীল বাজার চলে গেলো ওর ভালো মা মানে বন্দনা দেবী আমাকে একটা ধোয়া ভাজ করা কাপড় ও একটা গামছা দিয়ে কল ঘর দেখিয়ে দিয়ে বলল ফ্রেস হয়ে আসুন দিদি, আমি রাতের রান্না বসাই, আপনি ফ্রেস হয়ে এলে চা আর তেলে ভাজা খেতে খেতে গল্প করা যাবে,আমি বললাম বেশ তারপর বন্দনা দেবীর দেওয়া কাপড় ও গামছা নিয়ে কলঘরে গিয়ে স্নান করে ফ্রেস হয়ে এলাম,বন্দনা দেবী এরই মধ্যে চা আর তেলেভাজা করে ফেলেছে আমাকে একটা জলচৌকিতে বসতে দিয়ে চাও মুড়ির সাথে গরম গরম তেলে ভাজা খেতে দিলো এমন সময় নীল বাজার থেকে ইলিশ মাছ ও দেশি মুরগীর(মুর্গির) মাংস নিয়ে এলো ও ভালো মার হাতে দিয়ে বলল ভালো মা এইটা ভালো করে রান্না করো আন্টি বড়ো ভালো ও জ্ঞানী মানুষ ওনার পায়ের ধুলো আজ আমাদের বাড়ীতে(বাড়িতে) পড়েছে দেখো ওনার যেন কোনো অযত্ন না হয়, ওর ভালো মা বলল নারে বাবা আমি থাকতে ওনার কোনো অযত্ন হবেনা, আমি ঘর থেকে ওদের মা ছেলের সব কথা শুনতে পেলাম, নিজের খুব গর্ব মনে হচ্ছিলো এমন একটি পরিবারের একরাতের অথিতি(অতিথি) হতে পেরে যাইহোক, নীল বাড়ীতে বাজার থেকে আনা জিনিস পত্ৰ দিয়ে চলে গেলো ওর রাতের কয়েকটি ছাত্র ছাত্রীকে পড়াতে যাবার সময় আমাকে বলে গেলো আন্টি আপনি আমার ভালোমায়ের সাথে গল্প করুন আমি খুব তাড়াতাড়ি টিউশানি সেরে বাড়ি ফিরে আসবো,তারপর রাতের খাবার একসাথে বসে খাবো আমি বললাম ঠিক আছে বাবা, ও চলে গেলো, আমিওর ভালোমায়ের সাথে গল্প করতে লাগলাম বলা ভালো নীলের জীবনের গল্প শুনতে লাগলাম, আর তা শুনে আমি চমকে উঠলাম আর যা শুনলাম সেটাই লিখলাম আমার ভাষায়|এরপর কি ছিলো নীলের জীবনের রহস্য

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল-- নারী জীবনের সার্থকতা ____________________ সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ । তার বাবা ফুটপাতের খুচ...