Showing posts with label সুদীপ দাশ. Show all posts
Showing posts with label সুদীপ দাশ. Show all posts

Sunday, 7 August 2022

নিশীথে কে ও?-- সুদীপ দাশ

নিশীথে কে ও?-- সুদীপ দাশ

মানুষের মনে কতরকমের ইচ্ছেই না থাকে। আমার অনেক দিনের একটি সুপ্ত ইচ্ছে ছিল বনবাংলোয় বেড়াতে যাওয়ার,একটা গা ছমছম জায়গায় রাত কাটানোর।এই ব্যাপারে আমার উপযুক্ত দোসর পেয়েছিলাম প্রিয় বন্ধু শশাঙ্ককে। শশাঙ্ককে টেলিফোনে যেই না কথাটা পাড়লাম, সঙ্গে সঙ্গে ও তো দারুন উত্তেজিত।তবে একটু পরেই ও খানিকটা ম্রিয়মান হয়ে পড়ল।
বলল,-' তা কোন ট্রেনে যাওয়া হবে? রাতের না?'
 ওর একটা সমস্যা হল যে ও ঘুমোলে ভীষণ জোরে নাক ডাকে। এর জন্য অনেক বন্ধুরা ওর সঙ্গ অপছন্দ করে। শুধু কি তাই, ট্রেন জার্নিতেও ওকে রকমারি কটুক্তি শুনতে হয় সহযাত্রীদের কাছে।তবে আমার সে ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই, কেননা ঘুমোলে আমিও নাক ডাকি কিনা।তাই আমাদের দুইজনের এবারের জুটি জমবে ভালই।

     ভ্রমণ সংক্রান্ত পত্রিকাগুলোয় নানা রকম বনবাংলোর হদিশ থাকে। সেবার  ভ্রমণ বিষয়ক এক পত্রিকায় ছত্তিশগড়ের এক কম পরিচিত বনাঞ্চলের খবর পেলাম --'অচানকমার'।এই অরণ্যাঞ্চল ছত্তিশগড়ের গুরুত্বপূর্ণ শহর বিলাসপুরের খুব কাছেই।

এক ফেব্রুয়ারীর শীতে বেরিয়ে পড়লাম হাওড়া মুম্বই মেল ভায়া নাগপুরে।সঙ্গে আমার একান্ত প্রিয় বন্ধু শশাঙ্ক।পরের দিন সকালে পৌছেও গেলাম বিলাসপুর।নতুন রাজ্য ছত্তিশগড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।এই বিলাসপুর আবার আমার মেজমাসীর বাড়ি।মাসীমা গত হওয়ার পর এখন মাসতুতো দাদার পরিবার থাকেন। ওখানেই উঠলাম।অনেকদিন পর দেখা হওয়ায় দুই বন্ধুর ভালই আপ্যায়ন হল।আসলে আমি কলকাতা থেকেই অচানকমারের ডি এফ ও কে স্পীড পোস্টে চিঠি দিয়ে রেখেছিলাম যে আমরা বনের গভীরে তিন নম্বর বীটের ভুরাগাঁও বনবাংলোয় একটি রাত কাটাবো।পরের দিন পুরো অচানকমার ফরেস্টে একটি জীপসিতে চড়ে সাফারী করব।মাসতুতো দাদা তো আমাদের প্রোগ্রাম শুনে অবাক! 
বললেন--'তোরা এই কলকাত্তাইয়ারা যে কোথা থেকে এই সব বনবাংলো,টাংলোর খবর পাস কে জানে? পারমিশন করিয়ে নিয়েছিস অলরেডি?'
আমি বলি-' 'হ্যা,আমরা একটি গাড়ি করে ওই অচানকমার ফরেস্টের মেন গেটে পৌছে যাব কাল দুপুর দুপুর। তারপর তো ওদের গাড়ি নিয়ে ফরেস্টের ভেতরে যেতে হবে।তিন নম্বর বীটে পৌছতে আরও চল্লিশ পয়তাল্লিশ মিনিট লাগবে।ভুরাগাঁও বনবাংলোটি আরও জঙ্গলের গভীরে।সেখানে গাড়ি যায় না।মিনিট দশেক জঙ্গলের মধ্যে হেঁটে পৌছনো যায়।বাংলোর অদূরে হয়ে চলেছে শিরশিরে অর্পা  নদী, শোনা যায় তার কুলু কুলু ধ্বনি।বাংলোর পাশেই একটি ভগ্নপ্রায় কাঠের ওয়াচটাওয়ার। আর এক পাশে একটি ছোট্ট জলাশয়।আকাশে চাঁদ থাকলে এই বনবাংলোর রাতের শোভা অপরূপ।কিন্তু আমরা এসেছি তো ঘোর অমাবস্যার সময়,রোমাঞ্চ উপভোগ করতে।

যাই হোক সকালে  দুইবন্ধুতে একটা গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিলাম অচানকমারের উদ্দেশ্যে।ঘন্টা দুয়েক লাগল ফরেস্টের মেন গেটে পৌছতে।ওখানে ছোট্ট একটি অফিসঘর , সেখানেই আমাদের পারমীট তৈরী হল।আমরা সেদিন রাতটা  তিন নম্বর বীটের ভুরাগাঁও বনবাংলোয় কাটাবো।ফরেস্টের গেটের সামনেই কয়েকটি ঝুপড়ি দোকান ।দুজনের চাল,ডাল,রেশন ,তেল আরও অন্যান্য জিনিস নিয়ে নিলাম।জঙ্গলের ভেতরে বাইগা সম্প্রদায়ের একটা উপজাতি বসতি রয়েছে।যদিও ধাপে কাছে কোথাও ইলেকট্রিকের ব্যবস্থা নেই, তবু ওই বাইগা দের কয়েকঘরে দেখলাম সৌর আলো রয়েছে।এরপর গাড়ি আরও জঙ্গলের ভেতরে ঢুকলো।ঢোকার মুখে দেখলাম একটা ঝুপড়ি।ফরেস্টের ড্রাইভার ঝুপড়ির সামনে এসে ডাকলো, --'ও ঝোড়ু! ও ঝোড়ু!'
কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর ঝুপড়ির ভেতর থেকে এক কুঁজো বৃদ্ধ বেরিয়ে এল ধীরে ধীরে।
'আরে,এই বাবুলোগ বংগাল থেকে এসেছে।আজ রাতে তিন নম্বর বীটের ভুরাগাঁও বাংলায় থাকবে বুঝলি?তুই বাবুদের আচ্ছাসে দেখভাল করে দিবি , সমঝে না? বাবু এ হল ঝোড়ু, ঝোড়ু বাইগা।ও আপনাদের বাংলাতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে।'

ঝোড়ু আমাদের মুখের দিকে ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে থাকে।ঝুপড়ি থেকে একটা পুটলী আর একটা লাঠি নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে।আরও মিনিট পনেরো লাগে বাংলোয় পৌছতে, শেষে মিনিট দশেক জঙ্গলে হেঁটে,যেখানে দিনের বেলায়ই গা ছম ছম করে।
ড্রাইভার বলে, --' জানেন বাবু , ঝোড়ু বাইগাকে আগের ওই গাঁওএ ঘর দেওয়া হল।ও ঘর নিল না।বলে কি আমরা বাইগা , জঙ্গলের জাতি। আমরা জঙ্গলের থেকে আলাদা থাকবে কেন? তাই ও ঝুপড়িতে থাকে।'

মানুষ যবে থেকে জঙ্গলে সাফারী পার্ক বানাতে শুরু করল,জঙ্গলের জনজাতিদের এমনই ত্রাহি অবস্থা। শহুরে মানুষ না বোঝে ওদের দুঃখ, না ওদের এই অস্তিত্বের সঙ্কটের বেদনা কারুর বুকে বাজে।

দেখতে দেখতে বনবাংলো চলে এলাম যখন, কখন পড়ন্ত বিকেল।ড্রাইভার আমাদের পৌছে দিয়ে ফিরে গেল,পরদিন সকাল নটায় আবার আসবে বলে।শুধু যাবার সময় সে বলল---' বাবু, সাবধানে থাকবেন।অনেকদিন এই বাংলায় কোন লোক আসেনি কিনা।রাতে একা একা বাইরে বেরোবেন না।অনেক জন্তু জানোয়ার জল খেতে আসে,ঘুরে বেড়ায় তো।'
যাবার আগে আবার ঝোড়ু কে সেই আমাদের দেখভাল করার ইন্সট্রাকশন দিয়ে ড্রাইভার চলে গেল।

আমরাও ঝোড়ুকে সব রেশন উত্তর বুঝিয়ে দিলাম।ও কাঠের উনুনে খিচুড়ী রাঁধবে।আশ্চর্য লাগল যে ঝোড়ু একটুও বেশী কথা বলে না।কিন্তু বেশ আজ্ঞাবহ। সময়মতো লিকার চা করে আনল।আমাদের আনা বিস্কুট,মুড়ি,চানাচুর দিয়ে এই ভ্রমণ বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠল।

আস্তে আস্তে সন্ধ্যে ঘনিয়ে এল।।সন্ধেবেলায়  বারান্দায় বসে আছি ।সামনে কুয়াশার চাদরে মোড়া অমাবস্যার জঙ্গল।কানে আসছে নদীর জলের আওয়াজ।চারিদিকে এক অপার্থিব মায়াময় অন্ধকার।আমরা মনের আনন্দে বনবাংলোর রাতের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে লাগলাম।প্রাণ খুলে গান ধরে গান ধরলাম আমাদের  সেই আস্তানা জঙ্গলের ভিতরের নদীর ধারের বাংলোয়--'আজ জোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে,বসন্তেরই মাতাল সমীরনে।'
শশাঙ্কতো আমার গান শুনে হেসে মনে করিয়ে দিল যে চাঁদের আলোর চিন্হটি নেই ,এখন ঘোর অমাবস্যা!

সে যাই হোক আজ আমরা যেন বাঁধনহারা,  মুক্তপ্রাণ।  সময় এগিয়ে যায়,তখন প্রায় রাত আটটা বাজছে,চারিদিকে মায়াবী অন্ধকারে বিচিত্র ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক , জন্তুর ডাক,এই সব মিলিয়ে সে এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা।
বাংলোয় যে ঘরে আমরা ছিলাম তাতে একটি চৌকি ,তাতে চাদর পেতে রাতে শোওয়া হবে।পাশেই রান্না ঘর আর একটি টয়লেট।জলের ব্যবস্থা ইঁদারায়।হঠাৎ ঝোড়ু বাইগা একটা মোমবাতি হাতে ঘরে ঢুকে বলল,-'আমার সব রান্না হোয়ে গেছে বাবু। ওই টেবইলমে ঢাকা দিয়ে রাখলাম। হামি এইবার তো আমার ঘরে চলে যাব।'

আমরা তো এই কথা শুনে আঁতকে উঠলাম।বললাম --' তুমি আগে তো বলনি যে তুমি আমাদের রেখে চলে যাবে। আর যাবেই বা কোথায় এই রাতে।তোমার ঘর তো দেখলাম এখান থেকে অনেক দূর।'

ও শুধোল,--' না বাবুসাব, আমি এই বাংলায় রাতে থাকি না। আবার কাল সুবেহ সুবেহ চলে আসব।আর আমরা তো জঙ্গলের লোগ।আমাদের ওই জানোয়াররা কিছু করে না। কোয়ি ডর নেহি লাগতা।'

আমরা প্রমাদ গুনলাম।বললাম,--'দেখ ঝোড়ু,তোমাকে তো ফরেস্ট ডিপাট থেকে আমাদের দেখভাল করতে বলেছে।আর তুমি এই রাতে আমাদের জঙ্গলে ছেড়ে চলে যাচ্ছ।আমরা তোমার নামে কমপ্লেইন করব কাল।তোমাকে আমরা যানে তা টাইম মে বখ্শিশ ভি দেগা।'

ঝোড়ু কম কথার লোক,বলে --'না বাবু, এ বাংলায় আমি রাতে থাকি না। ইয়ে পাপকা বাংলা হ্যায়।'

বলে সে , মোমবাতি টেবিলে রেখে জঙ্গলে র মায়াবী অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ধীরে ধীরে।আমাদের দুই বন্ধুর ভ্রমণে এবার আরও রোমাঞ্চের ছোঁয়া,সঙ্গে আতঙ্ক।রাতও বাড়ছে।
আমরা ঢাকা দেওয়া খিঁচুড়ী ,আলুভাজা,বেগুনী মনের আনন্দে খেয়ে ফেললাম।
শশাঙ্ক বলল,' না! ঝোড়ুর রান্নার হাত বেশ ভাল বলতেই হবে।' 

আরও রাত বাড়ল ক্রমে।দুজনে এক সঙ্গে একটু বেরিয়ে সামনের খোলা বারান্দা পর্যন্ত গেলাম।মনে হল কে যেন দূরে হা হা করে হেসে উঠল।শশাঙ্ক বলল--'শুনলি হায়নার ডাক?'
বিচিত্র সব আওয়াজে ভয় ভয় করতে লাগলো,কেমন যেন গা ছম ছম করছে, ঠান্ডাও লাগছিল।দুজনে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম।একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখলাম।বিছানায় চাদর পেতে শুয়ে পড়লাম দুজনেই গল্প করতে করতে।শশাঙ্কটা এমন বেরসিক একটুক্ষণের মধ্যেই নাক ডেকে ঘুমোতে লাগলো।আমার আবার নতুন জায়গায় ঘুম আসে না।তায় আবার দিকে দিকে অদ্ভুত সব আওয়াজ।আহা কি পরিবেশ।দূরে নদীর কূল কূল শব্দর যেন কোন বিরাম নেই।আমি  উঠে পড়ে জানালা দাড়ালাম,অস্পষ্ট জলাশয়ের দিকে চেয়ে থাকলাম।যদিও নানারকম জীব জন্তুর ডাক শোনা গেল, কিন্তু অন্ধকারে কিছুই দেখা গেল না।আমি আবার শুয়ে পড়লাম।আস্তে আস্তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কে জানে।হঠাৎ ঘুমটা কেমন যেন হালকা হয়ে গেল।মনে হল কারা যেন ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে,ফিসফিসিয়ে কথা বলছে নিজেদের মধ্যে।একটা কেমন দমকা হাওয়া এল,ঘুমটা ভেঙে গেল,তবুও কেমন যেন তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব।টেবিলের মোমবাতিটা কখন নিভে গিয়েছে কে জানে।একটা ঠান্ডা হাওয়া আমার গায়ে লাগল।সঙ্গে মিষ্টি পারফিউমের গন্ধ।একটু পরেই আমার মনে হল কে যেন আমার বুকের ওপর চেপে বসেছে,আমি তারস্বরে চেঁচাতে চেষ্টা করছি,পারছি না,মনে হচ্ছে এবার বুঝি আমার গলা টিপে ধরবে!

শশাঙ্ক পাশেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।কোন রকম হেল দোল নেই।আমি কেন যেন ওকে জাগাতে পারছি না?
হঠাৎ মনে হল, নারীকন্ঠের হাসি খিল খিল করে।তারপরই একটা কর্কশ আর্তনাদ কোন পুরুষের আর একটু যেন ধ্বস্তাধ্বস্তির শব্দ---,তারপর সব চুপচাপ।কোথাও একটু দূরে প্রহর শেষের জানান দিয়ে একটি পেঁচা ডেকে উঠল।আমি অনন্ত ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লাম।তারপর আমার আর কিছুই মনে নেই সেই রাতের কথা।
সকাল সাতটায় ঝোড়ু বাইগা এসে দরজায় ধাক্কায় দিল।শশাঙ্ক উঠে দরজা খুলল।আমার আর শরীরে যেন কোন শক্তি নেই,উঠতেই পারছিলাম না,যেন প্রচুর পরিশ্রমে ক্লান্ত।শশাঙ্ককে গতরাতের কাহিনী খুলে বললাম।ও অবাক হল,কেননা ও তো কিছুই বুঝতে পারে নি।বলল,--' ও তোর মনের ভুল।অমাবস্যার রাতের ওই পরিবেশে ভয় পেয়ে গিয়েছিলি। এই পরিবেশে এরকম হতেই পারে।'

আমি মনে করলাম সত্যিই তো ওর তো কোন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে নি?
ঝোড়ু বলে,--'বাবুলোগকে কালরাত কোন কষ্ট্ হয় নি তো?'
আমি বললাম,--'তুমি যে কালকে বলছিলে এটা পাপের বাংলা, কেন গো?'
ঝোড়ু বলে--'তা  তো পাঁচ সাল হোবে,ওই উজাগর সিং --তালাগাঁও কে ঠাকুর,এই বাংলায় খুন হয়েছিল কি না? এহি খাটিয়া মে।'
আমি বলি-',- 'এ্যা?',বল কি?'
ঝোড়ু শুধোয়,--' উজাগর সিং. দলবল নিয়ে এই বাংলায় আসতো মস্তি করতে, তা হর মাইনামে এক দফা তো হবেই।'
আমি বলি,--'তারপর?'
-- 'লেকিন উস্ দিন একেলে এসেছিল।, এক পুনম কি রাত,রায়পুরের কোঠা থেকে ঝিমলি বাইকে নিয়ে এসেছিল।সারি রাত দুজনেই কত খেল খেলল, কত দারু খেল, মস্তি মারল।
লেকিন ,দুসরা দিন কি হল মালুম?'
আমি বলি,--'কি হল?'
--'এই খাটিয়া মে পাওয়া গেল উজাগরকা লাশ,দারু পিলাকে,বেহোশ হোনে কে বাদ,গলা দাবাকে  মার ডালা।'
আমি অবাক বিস্ময়ে কেমন যেন গতকাল রাতের ঘটনার মিল খুঁজে পাই।
বলি,--'তারপর কি হল?'
ঝোড়ু বলে--'তা,--উজাগর সিং হল ঠাকুর কা জাত,ওদের রক্তের একটাই ডাক-- খুন কা বদলা খুন।'
'তাই রায়পুরের কোঠায় সাতদিন পর পাওয়া গেল ঝিমলি বাই আর ওর আশিক্ এর লাশ।কোই গোলি মার দিয়া।'
সেদিনের সেই বনবাংলোর রাতের আমার জীবনে নিয়ে এল যেন এক অশরীরীর অভিজ্ঞতা,যা বলে বোঝানোর নয়।চোখ বুজলেই যেন শুনতে পাই সেই নারীকন্ঠের হাসি,আবার সেই আর্তনাদ-- সঙ্গে সেই মিষ্টি পারফিউমের গন্ধ---!!

------------

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল-- নারী জীবনের সার্থকতা ____________________ সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ । তার বাবা ফুটপাতের খুচ...