Sunday, 7 August 2022

ঢেঁকি শাক-- নির্মাল্য ঘোষ

ঢেঁকি শাক-- 
নির্মাল্য ঘোষ 

প্রণব বাজারে এসেছে ঢেঁকি শাক কিনতে - ছেলে ডিনো পাগলের মত ভালোবাসে ঢেঁকি শাক খেতে - ওর সবচেয়ে প্রিয় খাবার। 

কিন্তু জলপাইগুড়ির স্টেশন বাজারে আজকে ঢেঁকি শাক কোথাও দেখাই যাচ্ছে না। হন্যে হয়েও খুঁজে পেল না প্রণব - মনটা খারাপ হয়ে গেল ডিনোর কথা ভেবে। কিছু টুকটাক বাজার করে যখন ফিরে আসছে প্রণব, হঠাৎ দেখল এক গ্রাম্য বুড়ি মাথায় একটি ব্যাগ নিয়ে বাজারে ঢুকছে।  কি যেন মনে হল প্রণবের, বুড়িকে জিজ্ঞাসা করেই ফেলল -

"কি আছে ব্যাগে? "

" ঢেঁকি শাক বাবা " - বুড়ি ফোকলা দাঁতে সরল হাসি হাসল। 

প্রণবের মনটা নেচে উঠল আনন্দে - যেন ডুবতে ডুবতে খড়কুটো পেল সে।

" নামাও নামাও, ব্যাগ নামাও -আমি নেব।"

" আচ্ছা বাবা..."

বুড়ি বাজারে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে ব্যাগটি নামাল। একটি কাপড় বিছিয়ে তার ওপরে আঁটি করে বাঁধা ঢেঁকি শাকগুলো উপুড় করে ঢেলে দিল। অনেক শাক এনেছে বুড়ি। বেশ হৃষ্টপুষ্ট শাকগুলো।

" কত করে আঁটি?"

" চারটা দশ টাকা বাবা..." বলেই  বুড়ি ফোকলা দাঁতে সরল হাসি দিল আবার। প্রণব একটু অবাক হল, কারন, সাধারণত ঢেঁকি  শাক এক আঁটি পাঁচ টাকা, অর্থাৎ দশ টাকায় দুই আঁটি পাওয়া যায়, সেখানে বুড়ি দশ টাকায় চার আঁটি দিচ্ছে!!! অবাক কান্ড !!! তবুও প্রণব দামাদামি করল -

"ঠিক আছে, দশ টাকায় পাঁচ আঁটি দাও...."

শতছিন্ন পোষাকের সেই বুড়ি মাথা নীচু করে কি যেন ভাবল, তারপর, আবার ফোকলা দাঁতে সরল হাসি দিয়ে বলে উঠল,

"আচ্ছা বাবা নিয়ে যাও পাঁচ আঁটি দশ টাকায়... "

প্রণব যারপরনাই খুশি হল - দশ টাকা দিয়ে পাঁচটি বড় বড় ঢেঁকি শাকের আঁটি সংগ্রহ করে সে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা দিল। কিছু দূর হাঁটার পর কি যেন মনে হল তার। একটু থামল, কি যেন ভাবল - তারপর আবার পেছনে ফিরে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। বাজারে ঢুকে সোজা সেই ঢেঁকি শাকের বুড়ির সামনে দাঁড়াল। তারপর একটি একশ টাকার নোট বের করে বুড়ির দিকে এগিয়ে দিল। বুড়ি হাঁ হয়ে গেল।

No comments:

Post a Comment

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল-- নারী জীবনের সার্থকতা ____________________ সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ । তার বাবা ফুটপাতের খুচ...