Wednesday, 10 August 2022

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল--
নারী জীবনের সার্থকতা
____________________

সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ ।
তার বাবা ফুটপাতের খুচরো ব্যবসায়ী, মা পাড়ার এর ওর বাড়িতে টুকটাক কাজ করে সংসারটা কোনরকমে চালিয়ে নেয় । সমীরণ ইস্কুলে ভর্তি হয়েছিল বটে , পড়ায় মন না থাকলেও পাশ ফেল না থাকার সুযোগে ক্লাস এইট পর্যন্ত উঠেছিল । কিন্তু তারপরে তাকে স্কুল ছাড়িয়ে একটা মুদিখানার দোকানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল । মাসকয়েক পরে দোকানের টাকা চুরি করতে গিয়ে সে ধরা পড়ে । সেই থেকে আর কেউই তাকে কাজে রাখতে চাইল না ।

তারপরে অন্য কোন কাজের চেষ্টা না করে  সমীরণ পাড়ার ক্লাবে গিয়ে ক্যারাম পেটে নয়তো মেয়েদের ইস্কুলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে সময় কাটাতে থাকে । আরো কিছু বখাটে ছেলের পাল্লায় পড়ে সে মদ গাঁজা খেতেও শিখে গেল । নেশার পয়সা জোগাড় করতে কখনো সে বাবার তবিল থেকে চুরি করত আবার কখনো রাতে কারো বাগান থেকে নারকেল কলা কাঁঠাল ইত্যাদি চুরি করে সস্তায় কাউকে বেচে দিত । বার দুয়েক চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে তাকে চড়থাপ্পড় খেতেও হয়েছে । মেয়েদের পিছনে ঘুরঘুর করলেও তার কালো রোগাটে চেহারা আর নোংরা  পোশাক দেখে কেউ তাকে পাত্তা দিত না ।

 রমলা সমীরনের গ্রামেরই মেয়ে তবে অন্য পাড়ায় থাকে । বাবা নেই , মা লোকের বাড়িতে কাজ করে  । বয়স  ত্রিশ পেরিয়ে গেলেও গরীব ঘরের কালো রোগাটে মেয়ে বলে বিয়ে দেওয়া যায়নি । বছর কয়েক আগে সে শহরের এক নার্সিং হোমএ আয়ার কাজ জোগাড় করেছে । রোজ দুপুরে বাস ধরে শহরে যায় আর রাত আটটা নাগাদ ফিরে আসে , কোন কোনদিন একটু দেরীও হয়ে যায় । বাসরাস্তা থেকে গ্রামে ঢুকতে  খানিকটা জঙ্গুলে জায়গা আছে , কাছে একটা ভাঙাচোরা চালাঘরও আছে । রাতের অন্ধকারে সে জায়গাটা পার হতে অনেকেই ভয় পায় । কিন্তু রোজ ওই রাস্তা দিয়েই ফিরতে হয় বলে রমলা ব্যাগে একটা ছোট টর্চ রেখেছে ।

একদিন বিকালে সমীরণ বাসরাস্তার মোড়ে অন্য কয়েকজন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছিল । সন্ধ্যে নাগাদ কাল বৈশাখীর ঝড় শুরু হল , একটু পরে মুষলধারে বৃষ্টিও নামল । সমীরণ ও তার বন্ধুরা দেশী মদের দোকানে ঢুকে দু বোতল মদ ওড়াল । রাত সাড়ে নটা নগদ সেখান থেকে বেরিয়ে দেখল তখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে , বিদ্যুতের চমকানি থেমে গেছে । ভিজে ভিজেই বাড়ির রাস্তা ধরবে কিনা ভাবছিল এমন সময়ে  সমীরণ দেখতে পেল রমলা বাস থেকে নেমে বাড়ির পথ ধরেছে । তার সঙ্গে ছাতা আর টর্চ থাকলেও টর্চের আলোয় তেমন জোর নেই । সমীরণ খানিকটা দূরত্ব রেখে রমলার পিছনে পিছনে চলল ।

নানারকম গাছপালায় ভর্তি অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গার কাছে এসে রমলার টর্চ একেবারে নিভে গেল । সমীরণ বড়বড় পা ফেলে রমলার কাছে এসে পিছন থেকে তাকে জাপটে ধরল । রমলার হাতের ছাতা কোথায় উড়ে গেল , টর্চটাও পড়ে গেল । সমীরণ রমলাকে ধরে জঙ্গলের ভিতরে একটা ভাঙ্গা চালাঘরে নিয়ে তুলল । অন্ধকারে কেউ কারো মুখ দেখতে পাচ্ছিল না বলে রমলা তার আক্রমণকারীকে চিনতে পারল না । রমলা বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করল , কিন্তু কাছাকাছি কেউ থাকে না বলে তার ডাক কেউ শুনতে পেল না । সমীরণ অন্ধকারেই রমলাকে চালাঘরের বারান্দায় ফেলে তার উপরে চেপে বসল । রমলা নিজেকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেও বিফল হল এবং শেষে আত্মসমর্পন করল ।

 বেশ কিছুক্ষণ ধরে রমলার উপরে শারীরিক অত্যাচার চালানোর পরে বেহুঁশ রমলাকে সেখানেই ফেলে রেখে সমীরণ পালিয়ে গেল । আরো কিছুক্ষন পরে জ্ঞান ফিরে পেয়ে রমলা কোন রকমে উঠে বসল , তার শাড়ি সায়া  ছিঁড়ে গেছে , জলে কাদায় মাখামাখি হয়ে আছে । শরীরে অসহ্য বেদনা থাকায় আরো কিছুক্ষণ সেভাবেই বসে রইল তারপরে উঠে দাঁড়িয়ে শাড়িটা কোন রকমে জড়িয়ে নিল । বৃষ্টিটা তখন ধরে গেছে । অন্ধকারের মধ্যেই রমলা চালাঘরের বারান্দা থেকে নেমে হাতড়ে হাতড়ে গ্রামের রাস্তার দিকে এগিয়ে চলল । আবছা অন্ধকারে ছাতা বা টর্চ খুঁজে পেল না । ধীর পায়েই সে নিজের বাড়ির দিকে চলল । বাড়ি পৌঁছে সে তার মাকে জানাল অন্ধকারে পা পিছলে রাস্তার ধারে একটা খানায় পড়ে গিয়েছিল ।
 আশপাশের কেউই সে রাতের ঘটনার কথা টের পেল না । সমীরণএর কাজকর্মে ও আচরনে কোন পরিবর্তন দেখা গেল না । রমলা আগের মতোই সহরের নার্সিং হোমএ যাতায়াত করতে লাগল ।

মাস দুয়েক পরে রমলা টের পেল তার গর্ভে সন্তান এসেছে । বয়স ত্রিশ পেরিয়ে গেলেও তার বিয়ে হয়নি এমনকি তার কালো রোগাটে চেহারা দেখে কেউ তার সাথে প্রেম করার চেষ্টাও করেনি বলে এতদিন পর্যন্ত সে কুমারীত্ব বজায় রেখেছিল । ঝড়জলের রাতে অচেনা লোকটি জোর করে তার কুমারীত্ব নষ্ট করায় তার নারী জীবন সার্থক হয়েছে । কিন্তু কুমারী মেয়ে গর্ভ বতী হওয়ার খবর জানাজানি হলে গ্রামে তার ও তার মায়ের বাস করা কঠিন হবে । অতএব তার গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করে ফেলা দরকার । নার্সিং হোমএর ডাক্তার নার্সের মাধ্যমে গর্ভপাতের ওষুধ জোগাড় করাও কঠিন হবে না

1 comment:

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল-- নারী জীবনের সার্থকতা ____________________ সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ । তার বাবা ফুটপাতের খুচ...