Sunday, 7 August 2022

প্রেম ও কামনা--শংকর ব্রহ্ম

প্রেম ও কামনা--
শংকর ব্রহ্ম
-----------------------
আমি ফারজানা আক্তার।  
ফারজানা নামটির অর্থ জানেন তো? ফারজানা শব্দের মানে বুদ্ধিমান, মেধাবী, জ্ঞানী।  ফারজানা নামের মেয়েরা অনেক সহানুভূতিশীল হয়ে থাকেন। অন্যের সমস্যায় এরা সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। অন্যের বিপদে ফারজানা নামের মেয়েরা অনেক বেশি সাহায্য করে পাশে থাকেন। এবং এরা ভীষণ যত্নবান মানুষ হয়।
          আমি থাকি ঢাকায় । আমার স্বামী সৌধি-আরবে, এক তেলের কোম্পানীতে চাকরী করেন। বছরে একবার দেশে আসেন, মাসখানেক এখানে থেকে আবার চলে যান সৌধি-আরবে। যখন থাকেন এখানে তখন আমি আনন্দের জোয়ারে ভাসি।তবে চলে গেলেই জীবন আমার শুষ্ক মরুভূমি হয়ে যায় ।
        দু'বছর এইভাবে কাটাবার পর, সময়  সুন্দরভাবে আনন্দে কাটাবার জন্য আমি এক ক্লাবের সদস্য হই । সেখানে পরিচয় হয় রমণীমোহন চৌধুরী নামে এক কবির সঙ্গে। মানুষটি ভদ্র, সুরসিক, মার্জিত, সুন্দর কথা বলে, আচরণও অমায়িক।
         তার সাথে কিছুদিন ক্লাবে মেলা-মেশার পর, তার সাথে আমার হৃদ্যতা বাড়ে ,তার উপর বিশ্বাস জন্মায়। এরপর আমি তাকে একদিন আমাদের বাড়িতে আসতে বলি।
      সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়, বেলা বাড়ার সঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ বাড়ে। সন্ধ্যায় তার আসার কথা, সারা শহর তখন জলমগ্ন। ভাবি সে বুঝি আর এলো না। বৃষ্টির উপর আমার রাগ হয় খুব। তার প্রত্যাশা যখন ছেড়ে দিয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্তে কলিং বেল বেজে উঠল।
     দরোজা খুলে আমি তাকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই।
     এসো এসো বলে আমি তাকে ঘরে এনে বসাই। দেখি তার জামা প্যান্ট সব ভিজে গেছে। আলমারি খুলে আমার স্বামীর একসেট জামা কাপড় তাকে পরার জন্য বের করে দিই। বাথরুম থেকে শুকনো জামা কাপড় পরে সে যখন বেরিয়ে আসে আমি তাকে দেখে অবাক হয়ে যাই। দেখে মনেহয় ঠিক যেন আমার স্বামীই। পোষাক মানুষকে কতটা বদলে দেয় ভাবি আমি।
     আমরা কিছু খাবার আর ড্রিংস নিয়ে বসি। দু'পেগ খাবার পরই কবি বলে, চলো আজ ছাদে গিয়ে আমরা দু'জনে একসঙ্গে ভিজবো।
আমার সর্দির ধাত বলে, আমি না না করি। কবি আমার বারণ উপেক্ষা করে, প্রায় জোর করেই আমায় ছাদে নিয়ে যায়।
সে আবেগে গান ধরে, 
' আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে,
জানিনে, আমি কিছু জানিনে 
ফারজানা ছাড়া আর কিছু জানিনে
আজি ঝর ঝর মুখরও বাদল দিনে.......'
গান করতে করতেই আচমকা সে আমার কাছে এসে, আমাকে টেনে নেয় তার বুকে। আমি তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আমি আপত্তি করে বলি , এ কি করছেন কবি?
সে হেসে বলে, আমি কিছুই করছি না সুন্দরী। যা করার তা করছে এই প্রকৃতি ও পরিবেশ। এতে আমার কোন দোষ নেই।
তার কথা আমাকে স্পর্শ করে। আমাকে ভিতরে ভিতরে আলোড়িত করে। আমিও তার প্রতি মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ি। আমি আর নিজেকে সামলে রাখতে পারি না। আমিও একান্ত ভাবে নিজেকে সঁপে দিই বৃষ্টি মুখর সন্ধ্যার কাছে। তখন মনেহয়, যৌনতা শৃঙ্গার রসের এক স্পর্শময় ছন্দ খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়।

       তারপর সে কখন আমাকে ঘরে পৌঁছে দিয়ে চলে গেছে আমি টের পাইনি। সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি টেবিলের উপর আমার স্বামীর জামা প্যান্টটা পড়ে আছে। তা দেখে, কালকের ঘটনাটা ভেবে, শিহরণ জাগে আমার মনে।

No comments:

Post a Comment

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল-- নারী জীবনের সার্থকতা ____________________ সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ । তার বাবা ফুটপাতের খুচ...