Sunday, 7 August 2022

মেঘের মতো প্রেম"--নারগিস সুলতানা


"মেঘের মতো প্রেম"--
নারগিস সুলতানা


নিশি খুবই চঞ্চল আর মিষ্টি একটা মেয়ে এবার সে কলেজে ভর্তি হয়েছে।চঞ্চল মেয়েরা একটু হয়তো বেশিই ভালোবাসতে জানে তার ব্যতিক্রম নিশিও নয়।নিশিও ভালোবাসে সাহিদ নামক একটি ছেলেকে অনেক বেশিই ভালোবাসে।ছেলেটি বেশ চুপচাপ,শান্ত আর ধর্মিক।ছেলেটি প্রেমিক হিসেবে তেমন ভালো না হলেও স্বামী হিসেবে হয়তো দশে দশ পাবে। আর নিশি তেমন ঘরোয়া মেয়ে নয়,সংসারের রীতিনীতি সে তেমন কিছুই বোঝে না তাই নিশি মনে মনে ভাবে প্রেম আর কদিন? প্রেমিক হিসেবে না হোক,স্বামী হিসেবে তো সাহিদ ভালোই হবে এতেই চলবে। সাহিদ লাজুক ছেলে হওয়ায় নিশির থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করলেও নিশি তো চঞ্চল মেয়ে নিশির চঞ্চলতার প্রেমে পড়তে বাধ্য হলো সাহিদ। বেশ ভালোই চলছিলো তাদের দিনগুলি নিশি ধীরে ধীরে নিজেকে সাহিদের মতো করে তোলার চেষ্টা করলো,সাহিদও নিশির চঞ্চল মনটাকে বুঝতে শুরু করলো। 
- প্রায় ছয় মাস পরের কথা,আগেই বলেছিলাম নিশি এবার কলেজে ভর্তি হয়েছে, করোনা মহামারীর জন্য নিশিদের কলেজে নবীন বরণ হচ্ছে প্রায় ছয় মাস পরে। নবীন বরণের দশ দিন আগে থেকেই নিশির মনে কত আনন্দ নবীন বরণের দিন শাড়ি পড়বে,অনেক সাজগোজ করবে,সাহিদকে ফটো পাঠাবে চঞ্চল মেয়েদের মনে যা হয়,আসলে নিশির পুরো পৃথিবী জুড়েই ছিলো শুধু সাহিদ।
-নিশির কলেজে এক বন্ধু ছিলো তার নাম সম্রাট,সম্রাট বেশ লম্বা,সুন্দর একটা ছেলে তার সাথে সব মেয়েরা নবীন বরণের দিন ফটো তুলতে ব্যস্ত,নিশি কিন্ত তেমন ছবি তুলতে ভালোবাসেনা এখন সাহিদের সাথে তার সম্পর্ক আছে বলে নয় আগে থেকেই। তাই সম্রাটের সাথে ছবিও সে তুলতে চায়না কিন্ত সম্রাট নিশিকে খুব ভালো ফ্রেন্ড মনে করে তাই সে বলল সবার সাথে ছবি তোলা হলো চল নিশি তোর সাথে একটা ছবি তুলি।নিশির ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ছবি তুলতে হলো কারণ,
ফটো না তুললে হয়তো সম্রাট আর তার বান্ধবীরা নিশিকে অহংকারী ভাবতো।তাই একটা ছবি তুলেই ফেললো নিশি।
- ওইদিকে সাহিদ নিশির ফোনের অপেক্ষা করছে কিন্ত নিশি ফ্রেন্ডদের সাথে থাকায় আর নবীন বরণের উৎসবের ভিড়ে কল করার হাজার ইচ্ছে থাকলেও কল  করতে পারছে না কিন্ত বারবার সাহিদের হোয়াটসঅ্যাপ এর লাস্ট সিন দেখছে নিশি (হয়তো একটু বেশিই ভালোবাসে বলে)।
- সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে তাড়াহুড়ো করে নিশি সাহিদকে কল করলো,একটু রাগ বা অভিমান হয়েছিলো হয়তো সাহিদের আসলে সাহিদ একটু চাপা স্বভাবের তাই নিশির চঞ্চল মন বুঝতে পারেনি যে কতটা রাগ করে আছে সাহিদ নিশির উপরে নিশির কল না করার জন্য।
নিশি কলেজে কি কি করলো আজকে সারাদিন সব এক এক করে বলছে সাহিদ শুনছে, নিশি যেমন চঞ্চল তেমনই সহজ সরল তার মনের মধ্যে কোনো জটিলতা নেই।তাই সে তেমন কিছু না ভেবে সম্রাটের সাথে সে যে ফটো টা তুলেছিলো নিশি সেটা সাহিদের হোয়াটসঅ্যাপ এ পাঠিয়ে দিলো।ছবি টা দেখা মাত্রই সাহিদ ফোন কেটে দিলো,তার পরের দিন থেকে নিশিকে এড়িয়ে চলে সাহিদ নিশি বারবার জিজ্ঞেস করে তার অপরাধ কি? কিন্ত সাহিদ কোনো উত্তর দেয় না। এইভাবে চলতে চলতে নিশিও ক্লান্ত হয়ে পড়ে নিশিও আর খোঁজ নেয় না সাহিদের।এইভাবে তাদের সেই সুন্দর প্রেমের গল্পটা বিচ্ছেদের গল্পে পরিণত হয়।
-আজ পাঁচ বছর হয়ে গেল সেই ক্লান্ত হৃদয় নিয়ে নিশি আজও পাগলের মতো একটিই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায় "কি দোষ ছিলো আমার?"।

                                                                (সমাপ্ত)

No comments:

Post a Comment

অসিত কুমার পাল--নারী জীবনের সার্থকতা

অসিত কুমার পাল-- নারী জীবনের সার্থকতা ____________________ সমীরণ একটা বখে যাওয়া ছেলে, বয়স চব্বিশ পঁচিশ । তার বাবা ফুটপাতের খুচ...