অমিত দত্ত
শ্রীনগরের আর্মি বেস হসপিটালে শুয়ে আছে অর্ণব। তিনটে গুলি তার শরীর ভেদ করে চলে গেছে।
কাশ্মীরের সোপিয়ানে একটা গ্রামের ভিতর জঙ্গিদের ডেরার খবর পেয়ে তারা গিয়েছিল। একটা বাড়িতে শেল্টার নিয়েছিল ওই জঙ্গিরা। হোস্টেজ করেছিল ওই বাড়িরই লোকেদের । জঙ্গিদের নিকেশ করে লোকেদের সাবধানে উদ্ধার করা, এই ছিল মিশন। আর এই করতে গিয়েই অর্ণব সিরিয়াসলি উন্ডেড হল। তবে মিশন সাকসেসফুল হয়েছে।
বেডে শুয়ে শুয়ে অর্ণব ওর দাদার কথা ভাবছিল। দাদা ১৯৯৯ তে কার্গিল ওয়ারে শহীদ হয়। দ্রাস সেক্টরে টোলোলিং পুনরুদ্ধারের যে টীম তৈরি হয়েছিল, তার ক্যাপ্টেন ছিল সে। টোলোলিং উদ্ধার হয়েছিল আর অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তার দাদা অনিবার্ণ শহীদ হয়েছিল। পরে যখন তার দাদাকে মরণোত্তর মহাবীর চক্র দান করা হয়, তা গ্রহণ করেছিল তার বাবা অমল বর্মণ।
অনুষ্ঠানের পরে তার বাবাকে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করেছিল, তার দ্বিতীয় সন্তানকে তিনি কী করতে চান? বাবা উত্তর দিয়েছিলেন - “আমার এই ছেলেকেও আমি দেশের সেবায় উৎসর্গ করব। দাদার রক্ত তো ওর শরীরেও বইছে”।
“অর্ণব, তোমার সাথে একজন দেখা করতে এসেছেন”। অর্ণব চমকে উঠল। সে দেখল ক্যাপ্টেন গুরপ্রতাপ সিং একজনকে সঙ্গে করে এগিয়ে আসছেন। এই সেই ব্যক্তি যাকে সাবধানে বের করতে গিয়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়। “কিছুতেই ওনাকে নিরস্ত করা যাচ্ছিল না । তাই নিয়েই এলাম”। লোকটি তার জোব্বার ভিতর থেকে একপ্যাকেট কাজু আর কিছু ফলমূল তার টেবিলের উপর রেখে বলল- “ সালাম জনাব। আমার নাম ইমানুল। আপনার জন্যই আজ আমি বেঁচে আছি আর আমার পরিবার সালামত আছে। খোদা আপনাকে জন্নত এ স্থান দেবেন। মেরা শুকরিয়া লিজিয়ে”। অর্ণবের মনে হচ্ছিল এই ভালবাসার সন্ধানেই তার বাবা তাকে আর্মিতে পাঠিয়েছে আর সেও তার দাদার মতনই দেশকে সেবা করতে পেরেছে।
(শব্দসংখ্যা ২৫০ )
No comments:
Post a Comment